কালকিনি দালাল হাবিবের খপ্পরে লিবিয়ার গেমঘরে তরুনের মৃত্যু, ধুঁকছে শতাধিক যুবক
কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধিঃ
নাম মো. হাবিব খন্দকার (৪২)। পিতা মো. আলমগীর খন্দকার, গ্রাম- দক্ষিণ গোপালপুর, কালকিনি পৌরসভা ৯নং ওয়ার্ড। পেশায় ছিলেন একজন শিক্ষক। কিন্তু দ্রুত ধনী হওয়ার লোভে শিক্ষকতার আড়ালে তিনি শুরু করেন অবৈধপথে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর দালালি। প্রথম দিকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই অল্প সময়ে বেশ কিছু যুবককে ইতালিতে পাঠিয়ে পুরো জেলা জুড়ে ‘মাফিয়া ডন’ হিসেবে পরিচিতি পান হাবিব। এরপর সাধারণ মানুষ অন্য দালালদের বাদ দিয়ে তার বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করে। একপর্যায়ে দালালি ব্যবসার চাপে তিনি শিক্ষকতাও ছেড়ে দেন।
সম্প্রতি প্রায় শতাধিক যুবককে তাদের পরিবারের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ইতালিতে পাঠানোর উদ্দেশ্যে লিবিয়ার গেমঘরে রাখেন দালাল হাবিব। কিন্তু এবার আগের মতো সহজে তাদের ইতালিতে পাঠাতে ব্যর্থ হন তিনি। দীর্ঘদিন আটকে থাকায় এবং মানবেতর পরিবেশে গেমঘরে থাকা যুবকরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। বিনা চিকিৎসায় ধুঁকতে শুরু করেন শতাধিক যুবক।
এরই মধ্যে কালকিনি পৌর এলাকার দক্ষিণ জনারদন্দী গ্রামের কালাম হাওলাদারের ছেলে ইলিয়াস হাওলাদার ওই গেমঘরে বিনা চিকিৎসায় গত সোমবার মারা যান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা ও আপস-মীমাংসার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন ওই দালাল। এদিকে হাবিবের পাঠানো বাকি যুবকরাও বর্তমানে লিবিয়ার গেমঘরে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত দালালের বিরুদ্ধে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় পুলিশ এখনো তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
নিহত ইলিয়াস হাওলাদারের বাবা কালাম হাওলাদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ছেলের সোনালী ভবিষ্যতের আশায় হাবিব দালালের কাছে ২০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার ছেলে লিবিয়ার গেমঘরে বিনা চিকিৎসায় মারা গেল! এখন দালাল হাবিব টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মিটিয়ে ফেলার প্রস্তাব পাঠাচ্ছে।”
লিবিয়ার গেমঘরে আটকে থাকা আয়নাল ও মিথুনসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন যুবকের অভিভাবকরা জানান, তারাও লাখ লাখ টাকা দিয়েছেন সন্তানদের ইতালি পাঠাতে। কিন্তু সন্তানরা এখন অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে। দালালের বিরুদ্ধে কথা বললে বা মামলা করলে যদি সন্তানদের মেরে ফেলা হয়—এই ভয়ে তারা থানায় যেতে বা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অভিযুক্ত দালাল হাবিবের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে তার গ্রামের বাড়িতে পাওয়া যায়নি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম জানান, “লিবিয়ার গেমঘরে নিহত ইলিয়াস হাওলাদারের বাড়িতে আমরা খবর নিচ্ছি। ভুক্তভোগী পরিবার দালালের বিরুদ্ধে মামলা বা লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”